Skip to main content

শহর পেলো লটারি


কোথায় থাকেন আপনি? কর্নওয়ালিস স্ট্রিট, কলেজ স্ট্রিট? না মানিকতলা, বউবাজার? নাকি আরো এদিকে? ওয়েলিংটন স্ট্রিট, ওয়েলেসলি? কোলকাতার যেখানেই থাকুন না কেন আপনি, জানবেন স্রেফ ভাগ্যের জোরে আছেন সেখানে। কারন অন্যান্য সব পথের মতো এই জায়গাগুলো পুরোপুরি লটারির দান। ফ্রিস্কুল স্ট্রিট, কিড স্ট্রিট, হেস্টিংস স্ট্রিট, ক্রিক রো এগুলোও অংশত তাই-ই। এরকমই বাবুঘাট থেকে প্রিয় সভাস্থল ওয়েলিংটন স্কোয়ার, সবই লটারির দান। সালটা মোটামুটি ১৭৯১। তখন থেকেই চলে আসছে এই লটারির প্রথা। তখন তো আর পৌরসভা নেই, ইম্প্রুভমেন্ট ট্রাস্টও নেই কোলকাতায়। তাই সে যুগে রাস্তা-ঘাট তৈরি বা মেরামতি বা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হত লটারির টাকায়। প্রায় ১৮৩৬ সাল অব্দি এই প্রথা চালু ছিল। কিছুদিনের মধ্যে সরকারও এই প্রথার দিকে অগ্রসর হলেন। শুরু হল সরকারি লটারি। ১৮০৯ সালে গভর্নর জেনারেল স্বয়ং বসালেন লটারি কমিটি। যেমন টিকিট, তেমনই টাকা, আর তেমনি পুরস্কার। গরিবদের তো আর সামর্থ্য নেই, তাই তারা শোনে। একখানা টিকিটের দাম প্রায় ৫০ সিক্কা টাকা। তাতে পুরস্কারও ছিল সেরকমই। ১৭৯১ সালে চার্লস ওয়েস্টন শেষ টিকিটের মালিক হিসেবে জিতে নিয়েছিলেন গোটা টেরিটিবাজার, তখনকার দিনেও যার দাম ছিল ১ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা। ১৮০৯-১৭ সাল অব্দি কমপক্ষে সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা লটারির টাকা জমা পড়েছে শুধু পুরস্কারের আশায়। ১৮১৭ সালে এই কমিটি উঠে গিয়ে সেই দায়িত্ব এসে পড়ল ম্যাজিস্ট্রেটদের ঘাড়ে। এবার লটারির টাকায় শুরু হল নয়া পুকুর কাটা, নতুন ড্রেন তৈরি এসব। তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়েছিল টাউন হলের লটারি। শহরে খানা-পিনা, গান-বাজনা, আলাপ-আলোচনা করার মতো ভালো হল নেই কোনো। অগত্যা স্মরন করতে হল ভাগ্যের খেলা-কে। ৬৫০০ টিকিট, এক এক টিকিট ৬০ সিক্কা টাকা। ১৩৩১ খানা ছাড়া বিক্রি হল সব টিকিট। কিন্তু তাতেও হল তৈরির টাকা ওঠে না। শেষে চার-চার বার করতে হল লটারি। তারপর ১৮১৪ সালের ২২ মার্চে তৈরি হল আজকের টাউন হল। পুরোটা গড়তে খরচ হয়েছিল ৭ লক্ষ টাকা, তাজমহলের খরচের প্রায় কাছাকাছি। 

     

Comments

জনপ্রিয় লেখা

একটি বিবাহের কাহিনী।

‘শ্রীশ্রীলক্ষ্মামণিদেব্যাঃ বিনয়ং নিবেদনম। ২৩ শে অগ্রহায়ণ রবিবার বিধবা কন্যার শুভবিবাহ হইবেক, মহাশয়েরা অনুগ্রহপূর্বক কলিকাতার অন্তঃপাতী সিমুলিয়ার সুকেস স্ট্রিটের ১২ সংখ্যক ভবনে শুভাগমন করিয়া শুভকর্ম করিবেন। ইতি তারিখ ২১ শে অগ্রহায়ণ, শকাব্দঃ ১৭৭৮’। উপরের এই বার্তাটি পড়েই বোঝা যাচ্ছে এটি একটি বিবাহ নিমন্ত্রন পত্র। যে সে বিবাহ নয়, বিধবা বিবাহ। আজকের এই সময়ে এই বিধবা বিবাহ অসামান্য কোনো কিছু নয়। কিন্তু যদি সময়টা পিছিয়ে ১৮৫৩ সালে নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে কিন্তু এই নিমন্ত্রন পত্র এক সাংঘাতিক বার্তা বহন করছে। বিশেষত যখন সেই বার্তা ডাকে এবং হাতে বাংলাদেশের বিশিষ্ট আটশো জনের কাছে এসে পৌঁছেছে। বার্তার প্রেরক যেখানে একজন ব্রাহ্মন পণ্ডিত, সেখানে চমকে ওঠারই কথা। সংস্কৃত কলেজে বিদ্যাসাগর দিনরাত ভেবে চলেছেন কিভাবে বাংলাদেশে বিধবা মেয়েদের কল্যানের কথা ভাবা যায়। বিধবাদের মনোবেদনার সপক্ষে শাস্ত্রীয় সাক্ষ্য পেয়ে বিদ্যাসাগর পেশ করলেন শোভাবাজারে রাজা রাধাকান্ত দেবের বিবেচনা সভায়। প্রস্তাবের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে তর্কে জিতলেন ভবশঙ্কর বিদ্যারত্ন। রাধাকান্ত দেব একজোড়া মূল্যবান শাল দিয়ে পুরস্কৃত করলেন তাকে। কিন্তু...

প্রথম বাঙালি যাদুকর।

‘বাঙালি যাদুকর’ বলতেই বাঙালিরা আমরা সকলে একবাক্যে পি সি সরকারের নামটাই নি; সে সিনিয়র কিংবা জুনিয়র যে কেউই হোক। কিন্তু এটা হয়তো অনেকেই জানেন না, এই পি সি সরকারেরও বহু বছর আগে খোদ কোলকাতাতেই প্রথম বাঙালি যাদুকর হিসেবে নাম করেছিলেন তিনি। পি সি সরকার সিনিয়ারের ‘সিনিয়র’ হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা ছিলেন এই বাঙালি যাদুকর; গণপতি চক্রবর্তী। বাঙালিদের কাছে গণপতি চক্রবর্তী এখন ধুলোয় মিশে যাওয়া একটি নাম। গণপতি ছিলেন শ্রীরামপুরের চাতরা নিবাসী জমিদার পুত্র। ছোট থেকেই পড়াশুনা ছাড়া গানবাজনাতে ছিল অসাধারণ দক্ষতা। কিন্তু বাবার সাথে জমিদারি চালানোর দায়িত্ব কাঁধে আসতেই মাত্র ১৭ বছর বয়সে ঘর ছাড়েন গণপতি। বাড়ি থেকে পালিয়ে বাংলার বাইরে নানা অঞ্চলের সাধু-তান্ত্রিকদের সঙ্গে ঘুরতে লাগলেন গণপতি। শিখতে লাগলেন তাদের থেকে ভারতবর্ষের আদি যাদুবিদ্যা, সহজ ভাষায় যা কিনা ‘ভানুমতীর খেল’। কিন্তু এইভাবে বাড়ি ছেড়ে চলে আসাতে কিছুকাল পরে আর্থিক  সমস্যায় পড়তে হল তাকে। তাই সোজা চলে এলেন কোলকাতা। কোলকাতায় তখন প্রোফেসর প্রিয়নাথ বোসের সার্কাস শুধু বাংলা নয়, তখনকার দিনে গোটা ভারতবর্ষের গর্ব। বাংলাদেশের গুটিকয়েক বঙ্গসন্তানদের নিয়ে ...

বাঙালির হুজুকে কলকাতা।

বাঙালি আর কলকাতা; ইদানিং এই দুটো জিনিসে ‘হুজুক’ শব্দটা পেট্রলিয়াম পন্যের দামের মতোই বেড়ে চলেছে। হুজুকটা সে কিছু পন্যের কাল্পনিক চরিত্র নিয়েই হোক বা অন্যকে সাহসিকতা স্বরূপ কিছু চ্যালেঞ্জ করা নিয়েই হোক, বাঙালি যতদিন আছে এই হুজুকও ততদিন আছে। অবশ্য এই প্রজন্মের কলকাতা কিংবা বাঙালিকে এই হুজুক নিয়ে দোষারোপ করা যায় না। কেন না, কলকাতা যবে থেকে আছে, এই হুজুকও তবে থেকেই আছে। ‘হুতোম প্যাঁচার নক্সা’ যারা পড়েছেন তারা কিছুটা জানেন এ ব্যাপারে। হুতোমের জবানবন্দী থেকেই কিছু তুলে ধরি। হুতোম এই শহরকে বলতেন ‘হুজুকে কলকেতা’। সব হুজুকের মধ্যে একটা চাঞ্চল্যকর হুজুক নিয়ে বলা যাক, সেটা হল ‘জাল প্রতাপচাঁদ’-এর কথা। এও এক হুজুক উঠেছিল শহরে ১৮৩৫ সালে। প্রতাপচাঁদ ছিলেন বর্ধমানরাজ তেজচাঁদ রায়ের একমাত্র পুত্র। প্রতাপ যৌবন থেকেই ছিলেন উৎশৃঙ্খল ও মদ্যপ। এদিকে তেজচাঁদের পত্নী কমলকুমারী ও তাঁর ভাই পরানচাঁদ, যিনি ছিলেন রাজ এস্টেটের দেওয়ান; দুজনেই উত্তরাধিকারী প্রতাপের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকেন রাজ-সম্পত্তি দখল করে নেওয়ার উদ্দেশ্যে। অত্যধিক ব্যাভিচারের জন্য প্রতাপচাঁদ অসুস্থ হলে তাকে কালনায় নিয়ে যাওয়া হয় গঙ্গাযাত্র...