“ধর্ম মানুষকে আফিমের মতো নেশায় আচ্ছন্ন করে রাখে”; সাধারণত ধর্ম নিয়ে প্রসঙ্গ উঠলেই মার্কসবাদীরা চিরকাল কার্ল মার্কসের এই উক্তিকেই আপ্তবাক্য হিসেবে আওড়ে এসেছেন। মার্কসবাদে বিশ্বাসী অনুরাগীরা তাঁর এই বক্তব্যকে ধ্রুবসত্য হিসেবে ধরে নিলেও অ-মার্কসবাদী, ধর্মীয় নেতা, সমাজবাদী; অর্থাৎ কিনা সেই অর্থে যারা নিজেদেরকে মার্কসবাদী বলতে নারাজ, তাদের কাছে স্বাভাবিকভাবেই এইসব প্রশ্ন তৈরি হয়- তাহলে কি এক শ্রেণিহীন সমাজ গড়ে তোলার জন্য শ্রেণীসংগ্রামের পাশাপাশি মার্কস ধর্মের অস্তিত্বকে অস্বীকার করার কথা বলেছেন? মার্কস কি তাহলে নাস্তিকতাকে একমাত্র সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন? শুধু অ-মার্কসবাদীরাই নন, বহু মার্কসবাদীর কাছেও উপরের এই উক্তিটি এইভাবেই অর্থ তৈরি করে যে মার্কস তাদের সকলকে বস্তুবাদের (materialism) পাশাপাশি নাস্তিকতা উপরে জোর দিতে বলেছেন। কিন্তু কেন মার্কস হঠাৎ এই মন্তব্য করতে গেলেন, কোন প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তিনি এমন একটা জোরালো কথা বললেন, ‘ধর্ম এক ধরনের আফিম’; এই সমস্ত ব্যাপারটা বুঝতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে একটু পেছনের দিকে যে কোন সময়ে এই উক্তির জন্ম। কারণ সূচনাপর্ব পরিস্কার না হলে এই আপ্তব...
“কৈফিয়ৎ- যাহা আজগুবি, যাহা উদ্ভট, যাহা অসম্ভব, তাহাদের লইয়াই এই পুস্তকের কারবার। ইহা খেয়াল রসের বই। সুতরাং সে রস যাঁহারা উপভোগ করিতে পারেন না, এ পুস্তক তাহাদের জন্য নহে” উপরের লেখাটি খোদ কবিরই লেখা কৈফিয়ত, তাঁর সৃষ্ট ননসেন্স ছড়ার সংকলনের প্রথম পাতার সূচনা এইভাবেই। অবশ্য তাঁর লেখাকে তিনি ‘ননসেন্স’ আখ্যা দিলেও যারা সে রস উপভোগ করেছেন, তারা সেই ‘ননসেন্স’-এর মধ্যেই খুঁজে পেয়েছেন এক ‘সেন্সবল’ জগৎ, যে জগতে ‘শিব ঠাকুরের আপন দেশে/ আইন কানুন সর্বনেশে, যে জগতে মানহানির মোকদ্দমায় আসামী সাজিয়ে রায় দেওয়া হয় ‘তিনমাস জেল আর সাতদিনের ফাঁসি’। মাঝেমধ্যে মনে হয়, আমরা হয়তো ভাগ্যবান যে আমরা বাঙালী যারা বাংলা সাহিত্যের প্রেমে পড়েছি। সেটা না হলে হয়তো সুকুমার রায়ের এমন খেয়াল রসের রচনাগুলোর থেকে আজীবন বঞ্চিতই থেকে যেতাম আমরা। খুব ছোটোবেলায় মা যখন পড়ার বইয়ের পাশাপাশি বাংলা গল্পের বই পড়ানোর অভ্যেস করালেন আমাকে, তখন হাতেখড়িটা হয়েছিল দুটো বই দিয়ে। প্রথমটা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর ‘টুনটুনির গল্প’, আর দ্বিতীয়টা হল সুকুমার রায়ের ‘আবোল তাবোল’। অত ছেলেবেলায় রচনাগুলো গভীরভাবে ভাবার মতো অবকাশ অথবা বোধ; কোনোটাই তৈরি হ...