"ওরে নবীন, ওরে কাঁচা, আধ মরাদের বাঁচা"। 'Grayhound' দেখতে দেখতে কিন্তু এই লাইনটা মনে হয়নি। লাইনটা মাথায় এল ছবিটা দেখার একদম শেষে, যখন গ্রেহাউন্ড জাহাজের ক্যাপ্টেন মিত্রপক্ষের জাহাজের ক্যাপ্টেনকে জানালেন যে এটাই তার ফার্স্ট মিশন।
গল্পের প্রেক্ষাপট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। মিত্রশক্তি ব্রিটেন সেনাবাহিনীর জন্য রসদ চেয়ে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকার থেকে। সেই রসদকে সঠিকভাবে নিরাপদে পৌছে দিতে দায়িত্ব পড়েছে আমেরিকান ডেসট্রয়ার 'গ্রেহাউন্ড'-এর উপর। সেই মতো গ্রেহাউন্ডের ক্যাপ্টেন আর্নেস্ট ক্রাউজার (টম হ্যাংকস) মোট ৩৭টা মালবাহী জাহাজের দায়িত্ব নিয়ে আটলান্টিকের বুকে নামলেন নিরাপদে লিভারপুল অব্দি পৌছে দেওয়ার জন্য। তার কনভয়-তে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য যোগ দিল আরও তিনটি ডেসট্রয়ার 'হ্যারি', 'ঈগল' এবং 'ডিকি'। কিন্তু সমস্যাটা বাধল যখন তারা কনভয় নিয়ে 'ব্ল্যাক পিট'-এ পৌছায়। 'ব্ল্যাক পিট' হল আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে এমন একটি অঞ্চল যেখান থেকে কনভয়কে সাহায্য করার জন্য কোনো বিমান বাহিনীর সাহায্য পাওয়া যাবে না। পরবর্তী বিমান বাহিনীর সাহায্য পেতে গেলে গ্রেহাউন্ডের কনভয়কে যেতে হবে প্রায় লিভারপুল অব্দি। সেখান থেকে পাওয়া যাবে ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর কভার। আর এই ভয়ংকর অঞ্চলে এসেই গ্রেহাউন্ডের কনভয় জার্মান সামবেরিন 'ইউ বোট'-এর খপ্পরে পড়ে৷ মোট ৬টি ইউ বোট তাড়া করে গ্রেহাউন্ডের কনভয়কে। এবার কিভাবে জার্মান ইউ-বোটের হাত থেকে রসদ ভর্তি জাহাজগুলিকে বাঁচিয়ে নিরাপদে লিভারপুল পৌছে দিচ্ছে ক্যাপ্টেন ক্রাউজ, সেই নিয়ে তৈরি হয়েছে সিনেমা। অভিনয়ের দিক থেকে টম হ্যাংকস দিনের পর দিন এক একটি ম্যাজিক তৈরি করছে তার চরিত্রের মাধ্যমে। সিনেমাটি আদ্যোপান্ত একটি সাদামাটা গল্প নিয়ে, কিন্তু সিনেমাটি অসামান্য হয়ে ক্যাপ্টেন ক্রাউজের অনুভূতি, উপস্থিত বুদ্ধি এবং নিজের মিশনের প্রতি অবিচল ভঙ্গি তুলে ধরার জন্য।
সুতরাং এই কোয়ারেন্টাইনের বাজারে 'গ্রেহাউন্ড' দেখতে খারাপ লাগবে না। আমার মতে এখনও অব্দি ২০২০র সেরা দ্বিতীয় সিনেমাটি হল টম হ্যাংকসের 'গ্রেহাউন্ড'।
পুনশ্চঃ সেরার সেরা শিরোপাটা ক্রিস্টোফার নোলানের 'টেনেট'-এর জন্য তোলা থাক।

Comments
Post a Comment