Skip to main content

সারা চ্যাপম্যান ও দেশলাই বাক্সের গল্প ~ The Matchgirl's Strike 1888

৮ই মার্চ, আবারও একবার গোটা দুনিয়া জুড়ে সমারোহে পালিত হল আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারীদিবস। তবে বিশেষ করে ৮ই মার্চেই কেন নারীদিবস পালিত হয়; তার ইতিহাস ব্যাখ্যায় যাচ্ছি না আজকে। সে কথা অন্য সময় বলা যাবে। তার চেয়ে বরং আজ আপনাদের একজনের গল্প বলি, যার প্রতিবাদের ভাষার সাথে জড়িয়ে আছে দেশলাই কাঠির প্রস্তুতি। শুনতে একটু অদ্ভুত লাগছে? তাহলে শুনুন......

সভ্য সমাজে দেশলাই কাঠি যেন এক দ্বৈতরূপ বহন করে আনে। আকারে ছোটো এবং পলকা হলেও এক নিমেষে অনেক খান্ডবদাহন ঘটাতে পারে সামান্য একটা কাঠি। দেশলাই কাঠির ইতিহাস বৃত্তান্ত না করে আমরা বরং সোজা চলে যাই ১৯ শতকের শেষ দিকের ব্রিটেনে। এই সময়ে গোটা ব্রিটেন জুড়ে পপলার কিংবা কানাডিয়ান পাইন কাঠের যে দেশলাই তৈরি হত, তাতে বারুদের মশলা হিসেবে মূলত মেশানো হত সাদা ফসফরাস (যাকে হলুদ ফসফরাসও বলা হয়ে থাকে), পটাশিয়াম ক্লোরেট আর অ্যান্টিমনি সালফাইড। আর বারুদের এই মশলা মেশানোর আগে দেশলাইয়ের কাঠিগুলোকে সম্পূর্ণভাবে ভিজিয়ে রাখা হত তরল সালফারের মধ্যে। এই গল্পের সূত্রপাত 'ব্রায়ান্ট এন্ড মে' নামের এক দেশলাই প্রস্তুতকারক কোম্পানির থেকে। ১৮৪৩এ উইলিয়াম ব্রায়ান্ট এবং ফ্রান্সিস মে নামের দুজন কোয়েকার্সের হাত ধরে শুরু হয় এই দেশলাই কারখানার। ১৮৬১তে কারখানার নতুন ঠিকানা হয় ইস্ট লন্ডনের বো-র ফেয়ারফিল্ড রোডে। ব্যাবসার মুনাফা দ্বিগুণ থেকে দশগুণ করার জন্য ১৮৫০এ ব্রায়ান্ট আর মে হাত মেলায় বিখ্যাত স্যুইডিশ দেশলাই প্রস্তুতকারক জোহান এভার্ড ল্যান্ডস্ট্রামের সাথে। পুঁজিবাদী দুনিয়ার বাজারে ব্যাবসার লাভকে আরো বাড়ানোর জন্য বেশিরভাগ ব্যাবসায়ীরাই যা করে থাকেন, ব্রায়ান্ট আর মে-ও তাই করতে শুরু করলেন। দেশলাই প্রস্তুত করার সময় লাল ফসফরাসের (যা কিনা অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকর) বদলে মেশাতে শুরু করলেন সাদা ফসফরাস (যা অনেক বেশি ক্ষতিকর)। কারণ বাজারে লাল ফসফরাসের থেকে সাদা ফসফরাসের দাম অনেকটা সস্তা পড়ে। এখানেই শেষ নয়। মজুরি কম দিতে হবে বলে কারখানায় পুরুষ কর্মচারী বা শ্রমিকের বদলে ব্রায়ান্ট আর মে বেছে বেছে মহিলাদের কর্মসংস্থান করতে শুরু করলেন নিজেদের কারখানায়। ১৮৮০তে ব্রায়ান্ট এন্ড মে তাদের কারখানায় প্রায় ৫০০০ কর্মী নিয়োগ করে যার মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন মহিলা এবং আইরিশ বা আইরিশ বংশোদ্ভূত। শুধু তাইই নয়, এদের মধ্যে অনেক কর্মচারী ছিল যাদের বয়স ছিল ১৪ বছরের নিচে।


আপাত দৃষ্টিতে ব্রায়ান্ট আর মে অনেক কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা করে দিলেও লাভের গুড়ের লোভে কারখানার মালিকরা শ্রমিকদের উপর ক্রমাগত কাজের চাপ বাড়াতে শুরু করে। যার ফলে কারখানার কাজের পরিবেশ থেকে মজুরি; প্রত্যেকটি ব্যাপারে চূড়ান্ত অপ্রীতিকর পরিবেশ তৈরি হতে শুরু করে। ১৮৮০র রিপোর্ট অনুসারে, তরল সালফারে দেশলাই কাঠি ডোবানোর কাজটা করত মূলত পুরুষরা। আর মহিলা এবং বাচ্চা মেয়েরা থাকত দেশলাইয়ের বারুদের মশলা তৈরি থেকে কাঠি বাক্সে ভরার মতো কাজের জন্য। প্রতি ১০০ ফ্রেম দেশলাই বানানোর জন্য বরাদ্দ ছিল ১ সিলিং, কাঠি কাটিং-এর ক্ষেত্রে প্রতি তিন বাক্সের জন্য পৌনে ৩ পেনি আর দেশলাই কাঠি বাক্সে ভরার জন্য ১০০ বাক্স প্রতি ১ সিলিং ৯ পেনি। অন্যদিকে ১৪ বছরের নিচে শিশুশ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ ছিল সপ্তাহ প্রতি ৪ সিলিং। এত কম অংকের মজুরির সাথে কর্মীদের প্রতিদিন প্রায় ১৪ ঘন্টার সিফটে দেশলাই তৈরি করতে হত। কাজের পরিবেশ তো দূরস্থ; কর্মীদের জন্য বরাদ্দ খাবারের জায়গাগুলোও ছিল চূড়ান্ত অস্বাস্থ্যকর। তার উপর ছিল সাদা ফসফরাসের ক্ষতিকর প্রভাব। আসলে দেশলাইয়ের বারুদ তৈরির আগে মশলাগুলোকে ভালোভাবে মেশানোর জন্য সাদা ফসফরাসকে বেশ কিছুক্ষন গরম করে নেওয়া হত। কিন্তু এই সাদা ফসফরাস গরম করার পর যে ধোঁয়াটা তৈরি হত, সেটা একবার নিঃশ্বাসের সাথে গেলে ফসফরাস নেক্রোসিস ছিল অবধারিত। আর এর জন্য চোয়ালের হাড়ের অস্টিওনেক্রোসিসের মতো লক্ষন দেখা যেত বেশিরভাগ কর্মীদের মধ্যে। ফলে এক ধরনের ভয়ঙ্কর মারণমুখি অবস্থার সম্মুখীন হতে শুরু করল কর্মীরা। আর ঠিক এই পরিস্থিতিগুলো একটা প্রতিবাদের জন্ম দিল; যেন একটা দেশলাই বাক্সে একটা কাঠি জ্বলে ওঠার মতো।


১৮৮৮র জুন মাসে প্রথম ব্রিটেনের ফ্যাবিয়ান স্যোসাইটি দেশলাই কারখানার মহিলা কর্মীদের তাদের কাজকে বয়কট করার ডাক দেয়। যদিও ফ্যাবিয়ান স্যোসাইটিকে বিশ্লেষনকারীরা বামপন্থী উদারমনস্ক হিসেবেই গণ্য করে থাকেন, তাও তারা মহিলাদের বোঝান যে এই বয়কট হবে সম্পূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক এবং সংস্কারবাদী পন্থার মাধ্যমে; কোনোরকম বৈপ্লবিক পদ্ধতিতে নয়। ফ্যাবিয়ান স্যোসাইটির এই উদ্যোগের পরেই দেশলাই কর্মীদের এই দুরাবস্থার বিষয়টি নজরে আসে অ্যানি বেসান্তের। আর এরপরেই ২৩শে জুন 'দ্য লিঙ্ক' নামের একটি দৈনিক মুখপত্রে অ্যানি বেসান্তের "White Slavery in London" নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেখানে এইসব দেশলাই কারখানায় কর্মরত মহিলাদের প্রতিকূল অবস্থা আর শিশুশ্রমের উপর দৃষ্টিপাত করা হয়। অ্যানি বেসান্তের এই রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পরেই ব্রায়ান্ট এন্ড মে-র কর্তৃপক্ষরা বেশ অস্বস্তিতে পড়ে যান। যাতে কোনো কর্মচারী বয়কটে সামিল না হয়, সে জন্য তারা জবরদস্তি তাদের কারখানার মহিলা কর্মচারীদের লিখিত ভাবে বাধ্য করতে থাকে। কিন্তু তাতে কোনো ফল হয়নি।

 

২রা জুলাই ব্রায়ন্ট-মে দেশলাই কারখানার নারী শ্রমিকরা একসাথে বিক্ষোভে সামিল হয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। আর এই বিক্ষোভে মূল কাণ্ডারি হিসেবে গোটা ব্রিটেনের ব্যাবসায়ী এবং শ্রমজীবি সমাজে পরিচিত হন সারা চ্যাপম্যান। বিক্ষোভের সামনে থেকে সারা চ্যাপম্যান এবং তার আরো দুই সঙ্গী মেরি নাউলস আর মেরি কামিংস এই আন্দোলনকে প্রতিনিধিত্ব করতে থাকেন। আর এই ঘটনাই পরদিন লন্ডনের প্রতিটি সংবাদপত্রে পরিচিত হল এক নতুন নামে- The Matchgirl's Strike। এরপর ৫ই জুলাই আরো ১৪০০ জন মেয়ে এবং মহিলা একসাথে এই আন্দোলনে অংশগ্রহন করে। তবে আন্দোলনের আঁচ শুধুমাত্র ব্রায়ান্ট এন্ড মে-র কারখানার মেয়েদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল তখনও অব্দি। এর ঠিক পরেরদিন, অর্থাৎ ৬ই জুলাই কারখানার সমস্ত মহিলা কর্মীরা হরতাল ঘোষণা করে এবং তাদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন কর্মী কাজ ছেড়ে বাভারি স্ট্রিটের উদ্দেশ্যে মার্চ করতে করতে এগিয়ে যায়, অ্যানি বেসান্তের সমর্থন পাওয়ার জন্য। আর সেদিন অ্যানি বেসান্তের সাথে যে তিনজন মহিলা মূল উদ্যোগ নিয়ে দেখা করেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সারা চ্যাপম্যান। এই হরতালকে সফল করতে সেসময় একটি স্ট্রাইক কমিটিও তৈরি করা হয়, যার প্রথম মুখ্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন মেরি নাউলস, মেরি কামিংস, সারা চ্যাপম্যান, অ্যালিস ফ্রান্সিস, কেট স্লেটার, মেরি ড্রিসকল, জেন ওয়েলকিং এবং এলিজা মার্টিন। এই স্ট্রাইক কমিটির বেশ কিছু পাবলিক মিটিং-মিছিল খুব দ্রুত তৎকালীন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অনেক সদস্যের নজরে চলে আসে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য চার্লস ব্র্যাডলাফ প্রথম এই বিষয়টি অধিবেশনে সকলের নজরে আনেন। গোটা ব্রিটেন ট্রেডিং স্যোসাইটি সহ ব্রিটিশ সরকার বেশ নড়েচড়ে বসে এই আন্দোলনের জেরে। ১১ই জুলাই চ্যাপম্যান সহ ব্রায়ান্ট-মে-র প্রত্যেক মহিলা কর্মীরা তিনজন এমপি-র সাথে দেখা করেন তাদের সমস্যা নিয়ে। চ্যাপম্যানদের আগের দাবীর সাথে যুক্ত হয় কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা এবং ন্যায্য অধিকারবোধের মতো বিষয়। আস্তে আস্তে চ্যাপম্যান আর বাকি মহিলা কর্মীদের সমর্থনে এই স্ট্রাইক কমিটিকে তখন সাহাজ্যের জন্য এগিয়ে আসে টোয়েনবি হল আর লন্ডন ট্রেড কাউন্সিল। শেষ অব্দি ব্রায়ান্ট এন্ড মে-র ব্যাবস্থাপনার সাথে একটি মিটিং-এর পর ম্যাচগার্লদের সমস্ত দাবী মেনে নেওয়া হয়।

২৭শে জুলাই ইস্ট এন্ড লন্ডনের স্টেপনি জেলায় মেয়েরা প্রথম একটি ইউনিয়ন তৈরি করে যাকে দ্য ইউনিয়ন অফ ওমেন ম্যাচ মেকারস-ও বলা হয়ে থাকে। ১২জন মহিলা এই কমিটিতে নির্বাচিত হয়, যার মধ্যে সারা চ্যাপম্যান প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। তখনকার সময়ে এটিই ছিল গোটা ব্রিটেনের মধ্যে সবথেকে বড় মহিলা ট্রেড ইউনিয়ন। পরবর্তী সময়ে ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসে (টি ইউ সি) প্রথম প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হন সারা চ্যাপম্যান। পাশাপাশি লন্ডনের ১৮৮৮র আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস আর ১৮৮৯ সালে লিভারপুলের কংগ্রেসেও যোগদান করে মহিলা ট্রেড ইউনিয়নের জগতে এক অন্যতম পথিকৃৎ হয়ে রইলেন সারা চ্যাপম্যান।

Comments

জনপ্রিয় লেখা

একটি বিবাহের কাহিনী।

‘শ্রীশ্রীলক্ষ্মামণিদেব্যাঃ বিনয়ং নিবেদনম। ২৩ শে অগ্রহায়ণ রবিবার বিধবা কন্যার শুভবিবাহ হইবেক, মহাশয়েরা অনুগ্রহপূর্বক কলিকাতার অন্তঃপাতী সিমুলিয়ার সুকেস স্ট্রিটের ১২ সংখ্যক ভবনে শুভাগমন করিয়া শুভকর্ম করিবেন। ইতি তারিখ ২১ শে অগ্রহায়ণ, শকাব্দঃ ১৭৭৮’। উপরের এই বার্তাটি পড়েই বোঝা যাচ্ছে এটি একটি বিবাহ নিমন্ত্রন পত্র। যে সে বিবাহ নয়, বিধবা বিবাহ। আজকের এই সময়ে এই বিধবা বিবাহ অসামান্য কোনো কিছু নয়। কিন্তু যদি সময়টা পিছিয়ে ১৮৫৩ সালে নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে কিন্তু এই নিমন্ত্রন পত্র এক সাংঘাতিক বার্তা বহন করছে। বিশেষত যখন সেই বার্তা ডাকে এবং হাতে বাংলাদেশের বিশিষ্ট আটশো জনের কাছে এসে পৌঁছেছে। বার্তার প্রেরক যেখানে একজন ব্রাহ্মন পণ্ডিত, সেখানে চমকে ওঠারই কথা। সংস্কৃত কলেজে বিদ্যাসাগর দিনরাত ভেবে চলেছেন কিভাবে বাংলাদেশে বিধবা মেয়েদের কল্যানের কথা ভাবা যায়। বিধবাদের মনোবেদনার সপক্ষে শাস্ত্রীয় সাক্ষ্য পেয়ে বিদ্যাসাগর পেশ করলেন শোভাবাজারে রাজা রাধাকান্ত দেবের বিবেচনা সভায়। প্রস্তাবের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে তর্কে জিতলেন ভবশঙ্কর বিদ্যারত্ন। রাধাকান্ত দেব একজোড়া মূল্যবান শাল দিয়ে পুরস্কৃত করলেন তাকে। কিন্তু...

প্রথম বাঙালি যাদুকর।

‘বাঙালি যাদুকর’ বলতেই বাঙালিরা আমরা সকলে একবাক্যে পি সি সরকারের নামটাই নি; সে সিনিয়র কিংবা জুনিয়র যে কেউই হোক। কিন্তু এটা হয়তো অনেকেই জানেন না, এই পি সি সরকারেরও বহু বছর আগে খোদ কোলকাতাতেই প্রথম বাঙালি যাদুকর হিসেবে নাম করেছিলেন তিনি। পি সি সরকার সিনিয়ারের ‘সিনিয়র’ হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা ছিলেন এই বাঙালি যাদুকর; গণপতি চক্রবর্তী। বাঙালিদের কাছে গণপতি চক্রবর্তী এখন ধুলোয় মিশে যাওয়া একটি নাম। গণপতি ছিলেন শ্রীরামপুরের চাতরা নিবাসী জমিদার পুত্র। ছোট থেকেই পড়াশুনা ছাড়া গানবাজনাতে ছিল অসাধারণ দক্ষতা। কিন্তু বাবার সাথে জমিদারি চালানোর দায়িত্ব কাঁধে আসতেই মাত্র ১৭ বছর বয়সে ঘর ছাড়েন গণপতি। বাড়ি থেকে পালিয়ে বাংলার বাইরে নানা অঞ্চলের সাধু-তান্ত্রিকদের সঙ্গে ঘুরতে লাগলেন গণপতি। শিখতে লাগলেন তাদের থেকে ভারতবর্ষের আদি যাদুবিদ্যা, সহজ ভাষায় যা কিনা ‘ভানুমতীর খেল’। কিন্তু এইভাবে বাড়ি ছেড়ে চলে আসাতে কিছুকাল পরে আর্থিক  সমস্যায় পড়তে হল তাকে। তাই সোজা চলে এলেন কোলকাতা। কোলকাতায় তখন প্রোফেসর প্রিয়নাথ বোসের সার্কাস শুধু বাংলা নয়, তখনকার দিনে গোটা ভারতবর্ষের গর্ব। বাংলাদেশের গুটিকয়েক বঙ্গসন্তানদের নিয়ে ...

বাঙালির হুজুকে কলকাতা।

বাঙালি আর কলকাতা; ইদানিং এই দুটো জিনিসে ‘হুজুক’ শব্দটা পেট্রলিয়াম পন্যের দামের মতোই বেড়ে চলেছে। হুজুকটা সে কিছু পন্যের কাল্পনিক চরিত্র নিয়েই হোক বা অন্যকে সাহসিকতা স্বরূপ কিছু চ্যালেঞ্জ করা নিয়েই হোক, বাঙালি যতদিন আছে এই হুজুকও ততদিন আছে। অবশ্য এই প্রজন্মের কলকাতা কিংবা বাঙালিকে এই হুজুক নিয়ে দোষারোপ করা যায় না। কেন না, কলকাতা যবে থেকে আছে, এই হুজুকও তবে থেকেই আছে। ‘হুতোম প্যাঁচার নক্সা’ যারা পড়েছেন তারা কিছুটা জানেন এ ব্যাপারে। হুতোমের জবানবন্দী থেকেই কিছু তুলে ধরি। হুতোম এই শহরকে বলতেন ‘হুজুকে কলকেতা’। সব হুজুকের মধ্যে একটা চাঞ্চল্যকর হুজুক নিয়ে বলা যাক, সেটা হল ‘জাল প্রতাপচাঁদ’-এর কথা। এও এক হুজুক উঠেছিল শহরে ১৮৩৫ সালে। প্রতাপচাঁদ ছিলেন বর্ধমানরাজ তেজচাঁদ রায়ের একমাত্র পুত্র। প্রতাপ যৌবন থেকেই ছিলেন উৎশৃঙ্খল ও মদ্যপ। এদিকে তেজচাঁদের পত্নী কমলকুমারী ও তাঁর ভাই পরানচাঁদ, যিনি ছিলেন রাজ এস্টেটের দেওয়ান; দুজনেই উত্তরাধিকারী প্রতাপের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকেন রাজ-সম্পত্তি দখল করে নেওয়ার উদ্দেশ্যে। অত্যধিক ব্যাভিচারের জন্য প্রতাপচাঁদ অসুস্থ হলে তাকে কালনায় নিয়ে যাওয়া হয় গঙ্গাযাত্র...