Skip to main content

ভিয়েতনাম, প্রেসিডেন্ট আর কেলেঙ্কারির গল্প (পর্ব ১)

Courtroom drama আর political drama, বিশেষ করে journalism based সিনেমা যাদের পছন্দের, তাদের আশা করি “The Trial of Chicago 7”, “The Post” আর “All the President’s Men” এই তিনটে সিনেমার নাম জানা আছে। তবে একটু খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন যে এই তিনটে সিনেমারই বিষয়বস্তু আর সময়কাল এক না হলেও মোটামুটিভাবে এরা একই ধারাবাহিকসূত্রে গাঁথা বললে ভুল কিছু বলা হবে না। কারণ যে ঘটনার সূত্রপাত “The Trial of Chicago 7” সিনেমা থেকে শুরু হচ্ছে, সেটাই রাজনৈতিক চক্রান্ত, ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে কিছু গোপন দলিল ফাঁস হয়ে যাওয়া, কুখ্যাত ‘ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি’ আর একজন প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের মধ্যে দিয়ে বৃত্তটা সম্পূর্ণ করে “All the President’s Men” সিনেমাটা দিয়ে। এই তিনটে সিনেমার timeline-টা মো
টামুটিভাবে ১৯৬৮ থেকে ১৯৭৪এর মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। আসলে এই সিনেমা তিনটে তিনরকম message তুলে দেয় দর্শকের কাছে, যে কারণে এগুলোর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আর তার মধ্যে থাকা মূল কথাটা আলোচনা করার জন্যেই এই লেখার সূত্রপাত।

সময়কাল আর শুরুর কথা দিয়ে শুরু করতে গেলে এদের মধ্যে প্রথমেই রাখতে হবে “The Trial of Chicago 7”-কে। ২০২০ সালে কোভিড সময়কালে নেটফ্লিক্সে এই সিনেমা এসেছিল বটে, কিন্তু আমি দেখেছি তারও প্রায় দুবছর পর। কিন্তু তখনও ধরতে পারিনি যে এই সিনেমাটাও ভিয়েতনাম যুদ্ধ, নিক্সন-কান্ড ইত্যাদি ইত্যাদি ঘটনার সাথে ধারাবাহিকভাবে যুক্ত। সিনেমাটা প্রথমদিকে শুধু মুগ্ধ হয়ে দেখেছিলাম Eddie Redmayne, Sacha Baron Cohen, Joseph Gordon-Levitt আর Mark Rylance-এর অভিনয়। কিন্তু পরে এই নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে চোখে পড়ল “The Post” আর “All the President’s Men” সিনেমার সাথে ধারাবাহিকতার মিল। যেন ‘এক সূত্রে বাঁধা আছি মোর তিনজনায়’! আসলে ঘটনার শুরু “The Trial of Chicago 7” থেকেই।


সালটা তখন ১৯৬৬। দক্ষিণ-পূর্ব দেশ ভিয়েতনামে তখন চলছে এক অসম লড়াই; উত্তর ভিয়েতনাম বনাম দক্ষিণ ভিয়েতনাম। একদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন, চিন আর অন্যান্য কমিউনিস্ট মিত্রশক্তির দেশগুলোর সাহায্যে আক্রমন শানাচ্ছে উত্তর ভিয়েতনাম। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ অন্যান্য কমিউনিস্ট বিরোধী দেশগুলো দক্ষিণ ভিয়েতনামকে আড়াল থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কাজে নিয়মিত মদত দিয়ে চলেছে। সোজা কথায় কমিউনিজম বনাম অ্যান্টি কমিউনিজম বা ক্যাপিটালিস্ট আগ্রাসন। কিন্তু এই যুদ্ধ মাত্র দু-তিন বছরের গল্প নয়। শুরুটা হয়েছিল ১৯৫৪ থেকে, ফরাসীরা ইন্দোচীন ছেড়ে যাওয়ার পর যখন মার্কিন সরকার দক্ষিণ ভিয়েতনামের আর্থিক আর সামরিক ক্ষেত্রে তাদের সহায়ক হয়ে উঠেছিল। কিন্তু মার্কিনদের সাথে ভিয়েতনামিজদের সরাসরি সংঘর্ষটা শুরু হল যখন ১৯৬৫র ৮ই মার্চ ওকিনাওয়ার ৩য় মেরিন ডিভিশনের প্রায় ৩৫০০ মার্কিন সৈন্য দা-নাংয়ে অবরতণ করল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তখন লিন্ডন বি জনসন। মার্কিন জনগণের একটা অংশ তখন সেনাদের এই অবতরণকে খুব ভালোভাবে সমর্থন জানালেও মার্কিন জনগণেরই অনেকাংশ এই ভিয়েতনামের বিষয়ে মার্কিনের নাক গলানোটা ভালো চোখে দেখেনি। আর সেই নিয়ে বহুদিন আগে থেকেই সমালোচনা শুরু করে দিয়েছিল অনেকেই। বিশেষ করে মার্কিন যুবসম্প্রদায়, কিংবা সাম্রাজ্যবিরোধীরাই এই ভিয়েতনাম যুদ্ধে তাদের দেশের অংশ নেওয়াটাকে দেশের সরকারের ব্যর্থতা, জনগণদের ট্যাক্সের টাকাকে নয়ছয় করা আর অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা ইত্যাদি কারণগুলোকে ক্রমাগত তুলে ধরছিল সেসময়। আর এখান থেকেই ১৯৬৬-র ১০ই সেপ্টেম্বর নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ওহিওতে তৈরি হল ‘নভেম্বর ৮ মোবিলাইজেশন কমিটি’। ভিয়েতনামের যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর জন্যেই এই কমিটিরই একটা অংশ ভেঙে নতুন নাম নিল ‘দ্য স্প্রিং মোবিলাইজেশন কমিটি টু এন্ড দ্য ওয়্যার’। সংক্ষেপে যার নাম দেওয়া হল- দ্য মব।

Comments

জনপ্রিয় লেখা

একটি বিবাহের কাহিনী।

‘শ্রীশ্রীলক্ষ্মামণিদেব্যাঃ বিনয়ং নিবেদনম। ২৩ শে অগ্রহায়ণ রবিবার বিধবা কন্যার শুভবিবাহ হইবেক, মহাশয়েরা অনুগ্রহপূর্বক কলিকাতার অন্তঃপাতী সিমুলিয়ার সুকেস স্ট্রিটের ১২ সংখ্যক ভবনে শুভাগমন করিয়া শুভকর্ম করিবেন। ইতি তারিখ ২১ শে অগ্রহায়ণ, শকাব্দঃ ১৭৭৮’। উপরের এই বার্তাটি পড়েই বোঝা যাচ্ছে এটি একটি বিবাহ নিমন্ত্রন পত্র। যে সে বিবাহ নয়, বিধবা বিবাহ। আজকের এই সময়ে এই বিধবা বিবাহ অসামান্য কোনো কিছু নয়। কিন্তু যদি সময়টা পিছিয়ে ১৮৫৩ সালে নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে কিন্তু এই নিমন্ত্রন পত্র এক সাংঘাতিক বার্তা বহন করছে। বিশেষত যখন সেই বার্তা ডাকে এবং হাতে বাংলাদেশের বিশিষ্ট আটশো জনের কাছে এসে পৌঁছেছে। বার্তার প্রেরক যেখানে একজন ব্রাহ্মন পণ্ডিত, সেখানে চমকে ওঠারই কথা। সংস্কৃত কলেজে বিদ্যাসাগর দিনরাত ভেবে চলেছেন কিভাবে বাংলাদেশে বিধবা মেয়েদের কল্যানের কথা ভাবা যায়। বিধবাদের মনোবেদনার সপক্ষে শাস্ত্রীয় সাক্ষ্য পেয়ে বিদ্যাসাগর পেশ করলেন শোভাবাজারে রাজা রাধাকান্ত দেবের বিবেচনা সভায়। প্রস্তাবের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে তর্কে জিতলেন ভবশঙ্কর বিদ্যারত্ন। রাধাকান্ত দেব একজোড়া মূল্যবান শাল দিয়ে পুরস্কৃত করলেন তাকে। কিন্তু...

প্রথম বাঙালি যাদুকর।

‘বাঙালি যাদুকর’ বলতেই বাঙালিরা আমরা সকলে একবাক্যে পি সি সরকারের নামটাই নি; সে সিনিয়র কিংবা জুনিয়র যে কেউই হোক। কিন্তু এটা হয়তো অনেকেই জানেন না, এই পি সি সরকারেরও বহু বছর আগে খোদ কোলকাতাতেই প্রথম বাঙালি যাদুকর হিসেবে নাম করেছিলেন তিনি। পি সি সরকার সিনিয়ারের ‘সিনিয়র’ হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা ছিলেন এই বাঙালি যাদুকর; গণপতি চক্রবর্তী। বাঙালিদের কাছে গণপতি চক্রবর্তী এখন ধুলোয় মিশে যাওয়া একটি নাম। গণপতি ছিলেন শ্রীরামপুরের চাতরা নিবাসী জমিদার পুত্র। ছোট থেকেই পড়াশুনা ছাড়া গানবাজনাতে ছিল অসাধারণ দক্ষতা। কিন্তু বাবার সাথে জমিদারি চালানোর দায়িত্ব কাঁধে আসতেই মাত্র ১৭ বছর বয়সে ঘর ছাড়েন গণপতি। বাড়ি থেকে পালিয়ে বাংলার বাইরে নানা অঞ্চলের সাধু-তান্ত্রিকদের সঙ্গে ঘুরতে লাগলেন গণপতি। শিখতে লাগলেন তাদের থেকে ভারতবর্ষের আদি যাদুবিদ্যা, সহজ ভাষায় যা কিনা ‘ভানুমতীর খেল’। কিন্তু এইভাবে বাড়ি ছেড়ে চলে আসাতে কিছুকাল পরে আর্থিক  সমস্যায় পড়তে হল তাকে। তাই সোজা চলে এলেন কোলকাতা। কোলকাতায় তখন প্রোফেসর প্রিয়নাথ বোসের সার্কাস শুধু বাংলা নয়, তখনকার দিনে গোটা ভারতবর্ষের গর্ব। বাংলাদেশের গুটিকয়েক বঙ্গসন্তানদের নিয়ে ...

বাঙালির হুজুকে কলকাতা।

বাঙালি আর কলকাতা; ইদানিং এই দুটো জিনিসে ‘হুজুক’ শব্দটা পেট্রলিয়াম পন্যের দামের মতোই বেড়ে চলেছে। হুজুকটা সে কিছু পন্যের কাল্পনিক চরিত্র নিয়েই হোক বা অন্যকে সাহসিকতা স্বরূপ কিছু চ্যালেঞ্জ করা নিয়েই হোক, বাঙালি যতদিন আছে এই হুজুকও ততদিন আছে। অবশ্য এই প্রজন্মের কলকাতা কিংবা বাঙালিকে এই হুজুক নিয়ে দোষারোপ করা যায় না। কেন না, কলকাতা যবে থেকে আছে, এই হুজুকও তবে থেকেই আছে। ‘হুতোম প্যাঁচার নক্সা’ যারা পড়েছেন তারা কিছুটা জানেন এ ব্যাপারে। হুতোমের জবানবন্দী থেকেই কিছু তুলে ধরি। হুতোম এই শহরকে বলতেন ‘হুজুকে কলকেতা’। সব হুজুকের মধ্যে একটা চাঞ্চল্যকর হুজুক নিয়ে বলা যাক, সেটা হল ‘জাল প্রতাপচাঁদ’-এর কথা। এও এক হুজুক উঠেছিল শহরে ১৮৩৫ সালে। প্রতাপচাঁদ ছিলেন বর্ধমানরাজ তেজচাঁদ রায়ের একমাত্র পুত্র। প্রতাপ যৌবন থেকেই ছিলেন উৎশৃঙ্খল ও মদ্যপ। এদিকে তেজচাঁদের পত্নী কমলকুমারী ও তাঁর ভাই পরানচাঁদ, যিনি ছিলেন রাজ এস্টেটের দেওয়ান; দুজনেই উত্তরাধিকারী প্রতাপের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকেন রাজ-সম্পত্তি দখল করে নেওয়ার উদ্দেশ্যে। অত্যধিক ব্যাভিচারের জন্য প্রতাপচাঁদ অসুস্থ হলে তাকে কালনায় নিয়ে যাওয়া হয় গঙ্গাযাত্র...